সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
ফ্লুমিনেন্সের বিদ্যুৎ গতির ফুটবলে কাঁপছে বিশ্বকাপের মঞ্চ!
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলের নবযাত্রার অন্যতম রোমাঞ্চকর মঞ্চে রূপকথার মতো জয় লিখে দিল ফ্লুমিনেন্স। মার্টিনেলি ও হেরকিউলিসের অনন্যসাধারণ গোলের ওপর ভর করে সৌদি পাওয়ারহাউস আল-হিলালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিলিয়ান জায়ান্টরা। এবার তাদের সামনে ইংলিশ জায়ান্ট চেলসি।
ম্যাচের আগে মুহূর্তটি ছিল হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া— প্রয়াত দিয়োগো জোতা ও আন্দ্রে সিলভার স্মরণে দুই দল এক মিনিট নীরবতা পালন করে। এরপর শুরু হয় লড়াই, প্রথম ১৮ মিনিটে জমে ওঠে রক্ষণাত্মক কৌশলের দ্বৈরথ। তবে নাটক শুরু হয় ৪০ মিনিটে।
বাঁদিক থেকে বল কেটে দারুণ গতিতে ঢুকে মার্টিনেলি অসাধারণ বাঁ-পায়ের শটে জাল কাঁপান। আল-হিলালের অভিজ্ঞ কিপার ইয়াসিন বোনো হতাশ চাহনিতে তাকিয়ে থাকেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে কলিদু কুলিবালির হেড ঠেকিয়ে দুর্দান্ত সেভ করেন ফ্লুমিনেন্স গোলরক্ষক ফ্যাবিও। এরপর পেনাল্টির বিতর্ক— মার্কোস লিওনার্দোর ডাইভে রেফারির সিদ্ধান্ত, যা ভিএআরের বদৌলতে বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই সমতায় ফেরে আল-হিলাল। ৫১ মিনিটে নেভেসের কর্নারে কুলিবালির হেড লেগে পড়ে লিওনার্দোর সামনে, সেখান থেকে জালে বল— ১-১।
কিন্তু সমতা বেশি সময় থাকেনি। বদলি হিরো হেরকিউলিস আবারও আলো ছড়ান। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও ফিরতি বলে নিখুঁত শটে জালে বল— ২-১, ম্যাচের ফল সিল করে দেন।
অন্যদিকে, ইংলিশ ক্লাব চেলসি দারুণ ভাগ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়েছে। পালমেইরাসের বিপক্ষে শুরুতেই কোল পাল্মারের অসাধারণ স্কিলে এগিয়ে যায় ব্লুজরা। তবে ১৮ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় এস্টেভাও দ্বিতীয়ার্ধে একক নৈপুণ্যে ম্যাচে সমতা ফেরান।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় মালো গুস্তোর ক্রস, যা প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি চেলসি বনাম ফ্লুমিনেন্স— ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকা, অভিজ্ঞতা বনাম সাহসের মহারণ! ফ্লুমিনেন্স দেখিয়ে দিয়েছে, তারা সহজে হার মানার দল নয়। কে হাসবে শেষ হাসি, তা বলবে সময়।